দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে আমদানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মদ, দুগ্ধজাত পণ্য, মোটরবাইকসহ বেশ কিছু কানাডীয় পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
মঙ্গলবার একাধিক নির্বাহী আদেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন আমদানি নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে মঙ্গলবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে কানাডার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দেশটির জন্য খরচ হবে। তবে নিষ্ক্রিয় থাকার খরচ আরও বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দুই দেশের কর্মকর্তারাই বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তবে আগস্টের শেষ দিকে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে কোনো বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। কানাডার মোট রপ্তানির সাধারণত দুই-তৃতীয়াংশের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যায়। অন্যদিকে মেক্সিকোর পর কানাডাই যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।
তবে দুই দেশের চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে সীমান্তের উভয় পাশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, এর ফলে পণ্যের দাম বাড়বে এবং ক্রেতার সংখ্যা কমে যাবে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। এর আওতায় কানাডার আসবাবপত্র ও মদ শিল্পের পাশাপাশি ক্রীড়া ও মাছ ধরার সরঞ্জাম খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর সমপরিমাণ শুল্ক আরোপ করেছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর থেকে এসব পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কানাডা অন্য দেশগুলোর একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে এমন বিধিনিষেধ না দিয়ে শুধু মার্কিন পণ্যের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় কিছু পণ্য, যেমন ছানার পানি ও অ্যালকোহলমুক্ত বিয়ার, পুরোপুরি আমদানি নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে পনির ও মোটরবোটসহ কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক আরও বাড়ানো হয়েছে।
সোমবার ট্রাম্প আরও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের ইঙ্গিত দেন। কানাডার উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বার্ডিয়ারকে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপন না করলে প্রতিষ্ঠানটি আর দেশটিতে তাদের পণ্য বিক্রি করতে পারবে না।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে মনে করেন, শুল্ক আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো সম্ভব। তবে তাঁর বিস্তৃত শুল্কনীতি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক ঐতিহ্যবাহী মিত্রের সঙ্গে সম্পর্কেও চাপ তৈরি করেছে।
এদিকে ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতি ঘোষণার পর কয়েকজন কানাডীয় নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বর্জনের বড় ধরনের প্রচার শুরু করেন। এর মধ্যে মদও রয়েছে। কিছু দোকানের তাক থেকে মার্কিন মদ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ ডেবোরাহ এলমস বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আমদানি নিষেধাজ্ঞা কানাডীয় যেসব ব্যবসা মার্কিন ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রাথমিক হিসাবে এর প্রভাব প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে সীমিত হতে পারে।
তাঁর মতে, আপাতত কানাডা বর্তমান অবস্থান বজায় রাখবে এবং নতুন মার্কিন পদক্ষেপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যবসায়ীদের সহায়তার নীতি পরিবর্তন করতে পারে। তবে দুই দেশ আবার কবে আলোচনার টেবিলে বসবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার উত্তেজনা শুধু শুল্ক ও বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আগস্টে ট্রাম্প অন্টারিও হ্রদের নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার নির্দেশ দেন। এ সিদ্ধান্ত কানাডায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/